কোমর পর্যন্ত লম্বা চুলের কদর প্রাচীন যুগে অনেক বেশি ছিল।

0
279

এখনও লম্বা চুলের কদর একেবারেই কমে যায়নি। চেহারায় সৌন্দর্য যোগ করে চুল। তা কেবল সুন্দরই করে না, চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যক্তিত্বও তৈরি করে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষ তাই চুলের যত্ন নিতে চান সকলেই। কেবল ‘চুল পড়া’ কিংবা ‘শুষ্ক চুল’ থেকে বাঁচার উপায় জানাই শেষ কথা নয়, সুন্দর চুল পেতে হলে জানতে হয় সহজে চুল বড় করার পদ্ধতি।

অনেকেই অভিযোগ করেন যে, চুল ঠিক মতো বাড়ছে না। কিন্তু চুলের আকার যেমনই হোক, স্বাভাবিক হারে তার বৃদ্ধিও প্রয়োজন। চুল একটা সময়ের পর আর না বাড়লে তা চুলের স্বাস্থ্যহীনতাকে ইঙ্গিত করে। তাই ছোট চুল হোক বা বড়, চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা খুব জরুরি। বিশেষ করে যারা লম্বা চুল পছন্দ করেন, তাদের জন্যও এই সব কৌশল অত্যন্ত কার্যকর।

তেল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ: বিশেষজ্ঞদের মতে আজকাল অনেকেই চুলে তেল দেন না। কিন্তু প্রতিদিনই শ্যাম্পু করেন। কন্ডিশনারসহ শ্যাম্পু চুলের জন্য উপকারী।কিন্তু শ্যাম্পুর সঙ্গে তেলেও মনযোগ দিতে হবে। সপ্তাহে দুই দিন নারিকেল তেল ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে গরম করে মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করুন। বালিশে যাতে তেল না লাগে, সেভাবে মাথায় কাপড় বা নরম তোয়ালে জড়িয়ে শুয়ে পড়ুন। সকালে উঠে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিন। এতে চুলের গোড়া শক্ত হবে ও চুল সহজে ভাঙবে না। তেল থেকে যেটুকু খাবার চুল পায় সেটাও পরিপূর্ণ হবে।

রাসায়নিক দ্রব্য পরিহার করুন: চুলের বৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে শ্যাম্পুর দিকে নজর দিন। সিলিকন, সালফাইটমুক্ত কম ক্ষারযুক্ত শ্যাম্পু চুলের জন্য ভালো। অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু স্টাইল ও ফ্যাশনে সাহায্য করলেও তা আসলে চুলের গোড়ার ক্ষতি করে ও বৃদ্ধি আটকায়। শ্যাম্পু মেখে চুলে খুব বেশি ঘষাঘষিও করারও ভালো নয়।শ্যাম্পুর সময় প্রয়োজনের বেশি চুল ঘষবেন না এবং চুলে কখনই গরম পানি দেবেন না।

কন্ডিশনার: কন্ডিশনারের ক্ষেত্রেও বাছাইয়ের বিষয়ে খুব সাবধান হতে হবে। রাসায়নিকমুক্ত ও প্রাকৃতিক তেল যেমন বাবাসু, নারকেলযুক্ত তেল, মধু ইত্যাদি সমৃদ্ধ কন্ডিশনার নির্বাচন করুন। ► বালিশ ও বালিশের কাভার: চুলের স্বাস্থ্যরক্ষায় এদিকেও নজর দিতে হবে। চুল নিজেই প্রাকৃতিক উপায়ে তেল তৈরি করে তার গোড়াকে ভালো রাখার চেষ্টা করে। কিন্তু একটানা সুতি, পলিয়েস্টার বা রেয়নের কাভার দেওয়া বালিশে ঘুমালে সেগুলো চুলের তেল শুষে নেয়। তাই চেষ্টা করুন সিল্কের কাভার ব্যবহার করতে। ঘুমনোর সময় চুল বেঁধে নিন। এটা বালিশের সঙ্গে ঘষা খাওয়ার সম্ভাবনা কমবে।

যা এড়িয়ে চলবেন: চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে গেলে কিছু অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। চুলে খুব বেশি হিট দেওয়া চলবে না। এমন কিছু স্টাইলে চুল কাটা, যেখানে প্রচুর কুচো চুল বাদ পড়ে (মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ, ক্রিয়েটিভ কাট ইত্যাদি) তা বাদ দিতে হবে। এসব হেয়ার কাটে চুলের গোছা পাতলা হয় ও সামঞ্জস্য আসা খুবই সময়সাপেক্ষ বিষয় হয়ে ওঠে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here